Back to BD Tools

ট্রাফিক জরিমানার তালিকা

নতুন সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ধার্যকৃত জরিমানার পরিমাণ ও শাস্তি জেনে নিন।

এই জরিমানাগুলো 'সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮' অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ। পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ এর চেয়ে কম জরিমানা (আপস মীমাংসা) ধার্য করতে পারেন। জরিমানার টাকা এখন UPay, bKash বা ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে পরিশোধ করা যায়।

ট্রাফিক জরিমানার তালিকা ও আইন ২০১৮ (Traffic Fine List BD)

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ (Road Transport Act 2018) কার্যকর রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP) এবং দেশব্যাপী হাইওয়ে পুলিশের ই-প্রসিকিউশন (e-Prosecution) ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল স্লিপ ইস্যু করা হয়। আমাদের এই গাইড ও টুলে বিভিন্ন ধারার আওতায় সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ, ডিমেরিট পয়েন্ট এবং অনলাইনে জরিমানা পরিশোধের আইনি প্রক্রিয়া বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি ও কাগজ ছাড়ানোর ৪টি ধাপ

১

ই-প্রসিকিউশন স্লিপ

সার্জেন্ট প্রদত্ত মামলা স্লিপে থাকা ট্র্যাকিং নম্বর, অপরাধের ধারা ও নির্ধারিত জরিমানা দেখে নিন।

২

ডিজিটাল পেমেন্ট

ইউনিক কেস নম্বর দিয়ে বিকাশ, উপায় (UPay), নগদ বা নির্দিষ্ট ট্রাফিক বুথে জরিমানা পরিশোধ করুন।

৩

পেমেন্ট কনফার্মেশন

সফল পেমেন্টের সাথে সাথে পুলিশের সার্ভার থেকে আসা ট্রানজেকশন এসএমএস বা ই-রসিদ সংরক্ষণ করুন।

৪

কাগজপত্র ফেরত

সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক জোনের ডিসি অফিস বা সার্জেন্ট বুথে পেমেন্ট মেসেজ দেখিয়ে আপনার জব্দকৃত ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ির কাগজ ফেরত নিন।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী প্রধান অপরাধ ও জরিমানার হার

অপরাধের বিবরণ আইনের ধারা সর্বোচ্চ জরিমানা কারাদণ্ড (জেল)
বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত গাড়ি চালানো ধারা ৬৬ ২৫,০০০ ৳ সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস না থাকা ধারা ৭২ / ৭৫ ৫০,০০০ ৳ সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড
চালক বা আরোহী হেলমেট পরিধান না করা ধারা ৪৯(১) ১০,০০০ ৳ জরিমানা প্রযোজ্য
উল্টোপথে (Wrong Route) গাড়ি চালানো ধারা ৪৯ ১০,০০০ ৳ ৩ মাসের কারাদণ্ড হতে পারে
ট্রাফিক সিগন্যাল বা লাল বাতি অমান্য করা ধারা ৮৭ ১০,০০০ ৳ ডিমেরিট পয়েন্ট কর্তন
ড্রাইভিং করার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার ধারা ৪২(১১) ৫,০০০ ৳ ১ মাসের কারাদণ্ড হতে পারে

ট্রাফিক আইন ও মামলা সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. ট্রাফিক মামলার জরিমানা কত দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়?

ই-প্রসিকিউশন স্লিপ ইস্যু করার পর সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হয়। ১৫ দিনের মধ্যে জরিমানা না দিলে মামলাটি কোর্টে (বিজ্ঞ আদালতে) স্থানান্তর হয় এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির বিরুদ্ধে সিজার বা ব্ল্যাকলিস্ট জারি হতে পারে।

২. মোটরসাইকেলের পেছনের আরোহী হেলমেট না পরলে কি চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়?

হ্যাঁ। সড়ক পরিবহন আইনের ৪৯ ধারা অনুযায়ী মোটরসাইকেলের চালক এবং পেছনের আরোহী উভয়ের জন্যই বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদিত স্ট্যান্ডার্ড হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। কোনো একজন হেলমেটবিহীন থাকলে চালকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

৩. বিকাশ বা উপায় (UPay) দিয়ে কীভাবে ট্রাফিক জরিমানা দেওয়া যায়?

বিকাশ বা উপায় অ্যাপে লগইন করে 'Pay Bill' বা 'Traffic Fine' অপশনে যান। এরপর 'DMP Traffic Fine' সিলেক্ট করে প্রসিকিউশন স্লিপে থাকা কেস নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিন। জরিমানার পরিমাণ প্রদর্শিত হলে পিন কোড দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করুন। ফিরতি মেসেজে পাওয়া ট্রানজেকশন আইডিই কাগজ ছাড়ানোর প্রমাণ।

৪. ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডিমেরিট পয়েন্ট (Demerit Points) ব্যবস্থা কী?

নতুন আইনে প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে সর্বমোট ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। লাল বাতি অমান্য, ওভারস্পিড বা উল্টোপথে ড্রাইভের মতো আইন লঙ্ঘনে নির্দিষ্ট পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়। ১২টি ডিমেরিট পয়েন্ট শেষ হয়ে গেলে ওই ড্রাইভিং লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা সাসপেন্ড হয়ে যায়।

৫. ট্রাফিক পুলিশ কি স্পটেই নগদ টাকা জরিমানা হিসেবে নিতে পারে?

না, আইন অনুযায়ী কোনো ট্রাফিক পুলিশ অফিসার স্পটে ব্যক্তিগতভাবে নগদ ক্যাশ টাকা গ্রহণ করতে পারেন না। জরিমানা পরিশোধ করতে হবে ই-পস (POS) মেশিনে কার্ড/মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অথবা সরকার নির্ধারিত ব্যাংক ও এজেন্টের মাধ্যমে।

S

Shishir

Active now on Telegram

Copied to clipboard!